Views Bangladesh Logo

কাস্টমস আইনে নতুন অধ্যায় যুক্ত করার প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে কাস্টমস আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আওতায় দেশে 'মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল' বা ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনে নতুন একটি অধ্যায় এবং বেশ কিছু ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে আনা পণ্যগুলো কোনো ধরনের আমদানি শুল্ক ছাড়াই এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবে। সেখানে পণ্যগুলো সংরক্ষণ, মান নির্ধারণ, প্যাকেজিং, পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের সফল মডেল অনুসরণ করেই বাংলাদেশে এই ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল থেকে কোনো পণ্য যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশ করানো হয়, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও এক ধরনের নমনীয়তা আসবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই জোনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল আমদানির সময় (লিড টাইম) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে, ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও দক্ষতার সাথে আমদানিকৃত কাঁচামাল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করতে পারবেন, যা তাদের চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই দূরদর্শী উদ্যোগটি দেশের বাণিজ্য সহজীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ