Views Bangladesh Logo

এবার ৭ বছরের শিশুকে দিঘিতে টেনে নিল খান জাহান আলীর মাজারের কুমির

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারে জীবন্ত কুকুর টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির।

সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাট গম্বুজ ইউনিয়নের খানজাহান (রঃ) মাজারের দিঘিতে মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু ফাতেমা ও তার মা কয়েকদিন ধরে মাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে সোমবার রাতে শিশুটি দিঘির ঘাটে গেলে হঠাৎ একটি কুমির তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন ও দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ), জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।


এর আগেও এই মাজারের দিঘিতে দুইবার মানুষ টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর আগে এই দিঘিতে কুমিররা এক কিশোরকে টেনে নিয়ে যায় গভীর পানিতে। এরপর তার মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠে। এক যুগ আগেও মানসিক ভারসাম্যহীন মরিয়ম (৫৫) দিঘিতে থালাবাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ একটি কুমির তাকে টেনে নিয়ে যায় গভীর পানিতে। কিছুক্ষণ পর মরিয়মের নিথর দেহ ভেসে ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব তথ্য প্রকাশ পেলে কুমিরকে ঘিরে মাজারে যে ব্যবসা চলে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই আশঙ্কায় ঘটনাগুলো গোপন রাখা হয়।

গত ৮ এপ্রিল এসব ঘটনা আলোচনায় আসে দিঘির সেই কুমির ‘কাণ্ডে’। একটি আহত কুকুরকে দিঘির পাড় থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ভিউজ বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন ঐতিহাসিক দিঘির পাড় অরক্ষিত। প্রতিদিন শিশু থেকে বৃদ্ধ— নানা বয়সের মানুষ নামছেন কুমিরের সেই জলে। প্রশাসন জানে, মাজার কর্তৃপক্ষও জানে। তবু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির পাড়ে শিশুরা পানিতে খেলছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ গোসল করছেন, কেউ আবার গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। কুমির থাকার বিষয়টি জেনেও কারও মধ্যে তেমন কোনো আতঙ্ক চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, এখন কুমির দেখা যাচ্ছে না। কুমিরটি পাড়ের কাছে এলে তখন কেউ পানিতে নামেন না।

অন্যদিকে মাজার শরীফের খাদেমদের দেখা গেছে দর্শনার্থীদের পানিতে নামতে উৎসাহ দিতে। কোনো সতর্কতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এভাবে মানুষকে কুমিরের জলে নামতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে সে সময় বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় আছে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে গোসল করেন, পানি স্পর্শ করেন। এমনকি বোতলে করে পানি নিয়ে যান। এ অবস্থায় হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা দিলে মাজারভক্তরা বিষয়টি ভালোভাবে নাও নিতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মানুষের গোসল বা পানি সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে— যেখানে কুমিরটি যেতে পারবে না।’


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ