ফজলুর রহমানকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের মন্তব্যের প্রতিবাদ খায়রুল বাসারের
কিশোরগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানকে নিয়ে এক রাজনৈতিক সভায় করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘বেয়াদব কমেডিয়ান’ আখ্যা দিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ওই সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফজলুর রহমানকে ‘ফজু পাগলা’ ও কিশোরগঞ্জের ‘কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর নাম মুছে ফেলার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় খায়রুল বাসার লেখেন, ‘ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের অহংকার ও পরিচয়। কোনো বহিরাগত এসে এমন সম্মানিত অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে অপমান করবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’ কিশোরগঞ্জের মানুষের আত্মসম্মানবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘কিশোরগঞ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানিত, কিশোরগঞ্জের বাপসম একজন, যার পরিচয় কিশোরগঞ্জের পরিচয় বলা চলে, সে মানুষটাকে কিশোরগঞ্জের কলঙ্ক বলে আসতে পারতো না। বলতে পারতো না এই কলঙ্ককে এখান থেকে মুছে ফেলতে হবে।’
ফজলুর রহমানকে কিশোরগঞ্জের কিংবদন্তি উল্লেখ করে ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘কিশোরগঞ্জের সব ভদ্রলোক যদি মারা গিয়ে থাকে, আমি এই মাটির সন্তান হিসেবে বেয়াদবির নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানালাম।’ দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বন্ধ করে আচরণ সংযত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বেয়াদবরা ভাবতেই পারে মানুষ কিছু বলে না; তাই যা খুশি বলে যাই! অত্যন্ত আন্তরিক অনুরোধ—অনেক হয়েছে, এবার সংযত হওয়া উচিত।’
মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও কাউকে অসম্মান করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা। তাঁর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে; অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও দিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও জনসভায় তাঁর সরাসরি ও কখনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য আলোচনার জন্ম দেয়। এ সময় একটি পক্ষ ব্যঙ্গ করে তাঁকে ‘ফজু পাগলা’ বলতে শুরু করে। তবে বিদ্রূপ হিসেবে না নিয়ে তিনি উপাধিটি হাসিমুখে গ্রহণ করেন এবং কিশোরগঞ্জের প্রসিদ্ধ পাগলা মসজিদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পাগলা’ শব্দটি তাঁর কাছে সম্মানের।
সম্প্রতি সংসদেও আলোচিত বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করাটাই অন্যায় এবং এতে মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি নিজেকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকা হয় বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
মতামত দিন