কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার আহরণ, দুই দিনেই ৩১০ টন
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার আহরণ হয়েছে। মাছ ধরার ওপর টানা তিন মাস ১৬ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আহরণ শুরুর প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৩১০ মেট্রিক টন মাছ ধরেছেন জেলেরা। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ আগস্ট) কাপ্তাই হ্রদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ আহরণ শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে রাতদিন পরিশ্রম করে মঙ্গল ও বুধবার দুই দিনে জেলেরা বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করেন। এ সময় প্রায় ৩১০ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করা হয়।
কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৪৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালিবাউস, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া, শিং, চাপিলা, কেচকি, গজার, বাইম, ফলি, শোল, টাকি, কৈ, ছোট আইড়, বাতাসি ও বাইল্লাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
রাঙামাটি বিএফডিসি সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র। হ্রদটি দেশের মিঠাপানির মাছের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পরিচিত। এখানকার মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে ২৬ হাজার ৮৪৫টি মৎস্যজীবী পরিবার।
মাছ আহরণ বন্ধ থাকার সময়ে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদে বিপুল পরিমাণ পোনা অবমুক্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননও ভালো হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে, অন্যদিকে দেশের মিঠাপানির মাছের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। একই সঙ্গে লাভবান হচ্ছেন মৎস্যজীবীরাও।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের কারণে এবার বাম্পার আহরণ সম্ভব হয়েছে। এ জন্য বিএফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
তিনি জানান, রাঙামাটি ফিসারিতে নিবন্ধিত মৎস্য ব্যবসায়ী রয়েছেন ৭৭ জন এবং বিএফডিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৭৬ জন।
কাপ্তাই হ্রদে বিএফডিসির চারটি মাছ অবতরণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যায় একটি, রাঙামাটি সদরে একটি, কাপ্তাই উপজেলায় একটি এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে একটি অবতরণ কেন্দ্র রয়েছে। হ্রদে মাছের সাতটি অভয়াশ্রমও রয়েছে।
এদিকে রাঙামাটিতে মাছ অবতরণের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর ফিসারিঘাটে মাছ অবতরণ করা যাবে না।
মতামত দিন