Views Bangladesh Logo

কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবল ঝুলন্ত সেতু, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বাঘাইছড়ির পাশাপাশি রাঙামাটি সদরসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও পানি বাড়ছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। কয়েকটি সড়ক ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানিয়েছেন, উপজেলার কয়েকটি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট মিন সি লেভেল রেকর্ড করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে আরও প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার প্রভাব পড়েছে রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র ঝুলন্ত সেতুতেও। সেতুর পাটাতনের বেশির ভাগ অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ