Views Bangladesh Logo

লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নিয়োগের উদ্যোগ

লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথম শ্রেণির পদসহ সব পদে এভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট চাকরি প্রবিধানমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

এর মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ২০তম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত মোট ৬২টি পদে ৯৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এসব পদে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কয়েক হাজার প্রার্থী এতে আবেদন করেন।

মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের জন্য রাজস্ব খাতে সৃষ্ট পদগুলোতে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কোনো দৃশ্যমান যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৫ ফেব্রুয়ারি কিছু আবেদনকারীকে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে সব আবেদনকারীকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বা সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে একই প্রবিধানমালায় উল্লেখ আছে, বিশেষায়িত জাদুঘর হওয়ায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই ধারার সুযোগ নিয়েই লিখিত পরীক্ষার ধাপ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, 'নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে।' লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'প্রবিধানমালার ধারা ৩-এর উপধারা ৩ অনুযায়ী বিশেষ যোগ্যতার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করার সুযোগ রয়েছে।'

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়েই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোনো হচ্ছে। দ্রুত জাদুঘর চালু করার স্বার্থে লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে অল্প সময়ে প্রার্থীদের প্রশাসনিক দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা ও উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করে নিয়োগ সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'এসব পদ রাজস্ব খাতে সৃষ্ট। রাজস্ব পদে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। এতে ভবিষ্যতে নিয়োগ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।'

তার মতে, 'শুধু ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ, বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির পদে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি নয়। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।'

এদিকে সীমিতসংখ্যক আবেদনকারীকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকার বিষয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা কোনো এসএমএস বা প্রবেশপত্র পাননি। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করলে পক্ষপাত ও নম্বর কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়, যা মেধাভিত্তিক নিয়োগ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ