যশোরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের চৌগাছায় যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামে তার ওপর হামলা হয়। দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
নিহত জুয়েল আহমেদ রানা (৪০) মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি স্থানীয় পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে থাকা জুয়েল ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর এলাকায় ফিরে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গ্রামের মুক্তদাহ মোড়ে জুয়েল রানার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলীর (কসাই) কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫-৬ জন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম জানান, সকালে মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তার স্বামী কাছের মোড়ে চা খেতে যান। সে সময় হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা বিএনপির রাজনীতি করেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, 'আমার জানা মতে, স্থানীয় জমি-জায়গা নিয়ে বিরোধে জুয়েল রানা খুন হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম জড়িত নন।'
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, 'মূলত ইউসুফের (কসাই) সঙ্গে জুয়েলের আগে থেকে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।'

মতামত দিন