ঈদের দোয়ায় 'খালেদা জিয়ার নাম না বলায়' ইমামকে হুমকি যুবদল নেতার
ঈদের মোনাজাতে ‘খালেদা জিয়ার নাম না বলায়’ ইমামকে চাকরিচ্যুত করার' হুমকি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক সহ সম্পাদক সৈকত হাসান ইকবাল৷
সোমবার (১ এপ্রিল) সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদ-উল-ফিতরের দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন চরকাশীপুরের আঞ্জুবাহার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হক৷ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, নামাজ শেষে দোয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় তাকে 'হেনস্থা ও তার চাকরি কেড়ে নেবার' হুমকি দেন ইকবাল।
ইমদাদুল ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক। ইমদাদুল 'ঈদের দিনে ঈদগাহ থেকে মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম...' শিরোনামে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন৷
তিনি বলেন, 'নামাজ শেষে যুবদল নেতা ইকবাল আমার চাকরি খেয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন৷ আমি অনুরোধের পরও কেন খালেদা জিয়ার নাম নেইনি, সেজন্য তিনি আমার দিকে তেড়ে আসেন৷ খুবই আগ্রাসী আচরণ ছিল তার৷ মুসুল্লিরা প্রতিবাদ জানালে থামেন তিনি'।
পোস্টটির কমেন্টে স্থানীয় অনেকে যুবদল নেতার নেতিবাচক আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ লেখাটি শতাধিক ব্যক্তি শেয়ারও করেছেন৷
প্রত্যক্ষদর্শী মুসুল্লিরা জানান, সকাল পৌনে আটটার দিকে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ সবার সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন ইমাম ইমদাদুল।দোয়া শেষে তাকে ঘিরে ধরেন যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবাল ও তার অনুসারীরা৷ অনুরোধের পরেও দোয়ায় খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে দোয়া প্রার্থনা না করায় উচ্চবাচ্য করতে থাকেন তারা। পরে মুসুল্লিদের প্রতিবাদের মুখে যুবদল নেতা ও তার অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান।
মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, 'নামাজ শুরুর আগে বিএনপি-সমর্থক ঈদগাহ কমিটির একজন সদস্য খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু এটি আম-মজলিস। এখানে সব দলের লোকই আছেন। তাই বিতর্ক এড়াতে নির্দিষ্ট দলের কারো নাম উল্লেখ করা উচিত হবে না ভেবেই তা করিনি৷ তিনি (খালেদা জিয়া) রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকায় তার নাম উল্লেখের কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই৷ আমি সবার রোগমুক্তি কামনা করেছি'৷
যুবদল নেতার 'দুর্ব্যবহারের' জন্য ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদেরও আহ্বান জানান ইমদাদুল হক৷
যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবাল বলেন, 'আমি তার (ইমামের) সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি৷ আমি তাকে শুধু বললাম, অনুরোধের পরও আপনি কেন খালেদা জিয়ার নাম নিলেন না৷ উনি বললেন, উনি বাধ্য নন৷ তখন উনি কই চাকরি করেন জানতে চাই৷ জানলাম, উনি যেই মসজিদে চাকরি করেন সেই মসজিদের সভাপতি আমাদের ছোট ভাই'।
ইমামের চাকরি কেড়ে নেয়ার হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করেন ইকবাল।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে