তুলে নেয় যৌথ বাহিনী
কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লায় বাবার মৃত্যুর চার দিন পর কুলখানির দিনে যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলামকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ হাসপাতালে পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, পুলিশ ফোন করে জানায়, তৌহিদুল গুরুতর অসুস্থ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে তৌহিদুলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ইতলা গ্রামের মৃত মোখলেসুর রহমানের ছেলে। তৌহিদুল চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। তৌহিদুলের মা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন।
পরিবারের দাবি, তৌহিদের সঙ্গে একই এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে তানজিম আহমেদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তাদের অভিযোগ, তানজিম যৌথ বাহিনীর কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৌহিদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়েছে। যৌথ বাহিনী তাকে আটকের সময় স্থানীয় রহমত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলামও সেখানে ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘যৌথ বাহিনীর সহায়তায় তৌহিদকে হত্যা করা হয়েছে।’
নিহত তৌহিদের চাচাতো ভাই রাবিউল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার চাচা মোখলেসুর রহমান চার দিন আগে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে কুলখানির আয়োজনের জন্য আমরা গরু জবাই করি। রাত ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের দিকে যৌথ বাহিনী তৌহিদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মোরশেদ ফোন করে জানান, ‘তৌহিদের অবস্থা ভালো না, দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে আসুন।’ হাসপাতালে পৌঁছে দেখি, তৌহিদ আর নেই, সে মারা গেছে। চার দিন আগে তার বাবা মারা গেছেন, আর চার দিন পর যৌথ বাহিনী তাকেও মেরে ফেলল। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না।’’
এ বিষয়ে এসআই মোরশেদ বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে আমরা গোমতী বিলাস এলাকায় গিয়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে তাকে গাড়িতে উঠাই। তখন সে জীবিত ছিল। তবে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনার পর এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, ‘সেনা সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘তৌহিদ একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। যদি তিনি কোনো অপরাধে জড়িত থাকতেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেত। আমি তার মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তৌহিদুল ইসলামকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে