Views Bangladesh Logo

চাঁদা না দেওয়ায় ওষুধ ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ, যুবদল নেতা পলাতক

গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদা দাবিতে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানের বিরুদ্ধে। স্বামীকে উদ্ধারের জন্য সেখানে গিয়ে তার স্ত্রীও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আতিকুল ইসলাম (৫০)। অভিযোগে ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ডেকু গার্মেন্টসের সামনে সরকার মার্কেটে ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত ফজলুল হক রোমান (৪৫) মাওনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে এবং মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে এক নারী ব্যবস্থাপত্র ছাড়া হার্টের ওষুধ চাইলে আতিকুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি পরে যুবদল নেতা রোমানকে জানানো হয়। এর জেরে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে তাকে মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রোমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়।

আতিকুলের অভিযোগ, কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং লোহার রড দিয়ে দুই ঊরুতে মারধর করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে কয়েক দফায় নির্যাতন করা হয়।

তার সঙ্গে থাকা ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসার মূলধনের ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আতিকুল। পরে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

আতিকুল বলেন, তাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে তার স্ত্রী প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে আতিকুলের বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নির্দেশে শুক্রবার দুপুরে মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রোমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন সংসদ সদস্য।

অভিযুক্ত ফজলুল হক রোমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ