যুবদলকর্মী নাসিরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে একের পর এক গুলিতে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে কদলপুর ইউনিয়নের শমসের পাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাসিরকে লক্ষ্য করে আগে থেকেই অবস্থান নেয় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে তারা পথরোধ করে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর খুব কাছ থেকে বুকে ও পিঠে একের পর এক গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। দমকা হাওয়ার মধ্যে অন্ধকারে পুরো ঘটনাটি ঘটে। তবে চাঁদের আলোয় পাশের বাড়ির কয়েকজন বিষয়টি দেখতে পান।
পরিবারের দাবি, নাসিরের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না; রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তার বড় ভাই আকতার হোসেন বলেন, আগেও একবার সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছিল নাসির। তখন বেঁচে গেলেও এবার গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মারা গেল।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, নাসিরের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কদলপুর এলাকায় পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন ও অন্যান্য প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর এসব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত বেড়ে যায়। এর জেরে গত দুই বছরে এ এলাকায় একাধিক গুলির ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নাসিরের একমাত্র মেয়ে লাভলী আক্তার অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতা বলেন, নাসির দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক বাসিন্দা মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে ভীতির ছাপ স্পষ্ট।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে