খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসায় ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার ‘রূপসা ব্রিকস’ ইটভাটায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ফখরুল রূপসার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই। তিনি নিজেও সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুরের ‘রূপসা ব্রিকস’ ইটভাটাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল। ফখরুল নিয়মিত ইটভাটা ও সংলগ্ন মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। মঙ্গলবার বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সঙ্গে ফখরুলের বাকবিতণ্ডা হয়। উক্ত ঘটনার জের ধরে রাতে তৈয়ব ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইটভাটার অফিস কক্ষের পাশে অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ফখরুলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি তার ঘাড়ে এবং অপরটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় বিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ আরও তিন ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ফরহাদ বলেন, আমার ভাটার ক্যানেলে মাছ চাষ করতো ফখরুল। রাতে মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। রাস্তায় ওর সঙ্গে দেখা হলে আমাকে জানায়, ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরবে।
তিনি আরও বলেন, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ওর বন্ধু আজাদুর আমাকে ফোন করে বলে, ভাই ফখরুলকে কারা যেন মারছে আপনি দ্রুত আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখি, অফিসের পাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, এ ঘটনায় তার ভাই ফরহাদ শেখ বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এই হত্যা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
মতামত দিন