Views Bangladesh Logo

জাতীয় নির্বাচন ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা

জ রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের  মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নতুন সরকার গঠন করবে। এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের মানুষ বার বার জীবন দিয়েছে। অতএব, আমাদের সবারই নাগরিক দায়িত্ব, এ প্রক্রিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে কারচুপি কিংবা নির্বাচনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ অতীতের প্রায় সব নির্বাচনের ক্ষেত্রেই উঠেছে। তারপরও নির্বাচনে বিজয়ী দল সরকার গঠনের পর বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছে। অতীতেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচনে ভোট দেয়া যেমন নাগরিক অধিকার, তেমনি গণতন্ত্রে ভোট না দেয়াও একজন নাগরিকের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। অতএব, যে নাগরিক ভোট দেবেন, তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদের যেমন সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, তেমনি যারা ভোট দিতে চান না, তাদের অধিকারবোধকেও অসম্মান করা উচিত নয়।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিক অধিকার প্রয়োগে উৎসাহী। অতীতে আমরা দেখেছি, মানুষ রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে। সকালে হয়তো ভোটকেন্দ্রে কোনো পক্ষ সন্ত্রাস করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে; কিন্তু দুপুরের মধ্যেই আবার ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক অধিকার প্রয়োগে বাংলাদেশের মানুষের এই দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল।

এবারের জাতীয় নির্বাচন নানা দিক থেকে আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে নতুন মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এ কারণে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বলয় সৃষ্টির জন্য বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও দেখা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত গত দুই দশকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার বাংলাদেশের নিজস্ব নীতি ও আদর্শে অবিচল থেকেছে। দৃঢ় কূটনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর বলয় থেকে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র একটি অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে যে টানাপোড়েন, তার কশাঘাতে বাংলাদেশ সামান্যই জর্জরিত হয়েছে।

 আমরা আশা করি, আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নতুন সরকার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সামর্থ্য হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সফলভাবে এগিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় মতপার্থক্য থাকবে। ভিন্ন মতের ব্যক্তি, সংগঠন থাকবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ঐকমত্যও থাকবে। কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে প্রতিহিংসা, নাশকতা, সন্ত্রাস, বর্বরতা  গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নতুন সরকারকে নাশকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তিতে চিহ্নিত করে  তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

পাশাপাশি সতর্ক থাকতে হবে, কোনো অবস্থাতেই সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেন না ঘটে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুকে সামনে রেখে বিশ্বের কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রও নিজেদের হীন স্বার্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাতে না পারে।

 আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকারকে আগাম অভিনন্দন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ