Views Bangladesh Logo

ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষ, সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে কর্মস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান। আর রাজীব ঘোষ প্রতিষ্ঠানটির ক্রাইম চিফ ও বিশেষ প্রতিনিধি।

ঘটনার পর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। তবে কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হবে, নাকি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেন জানান, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি নিউজ কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিরাপদে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাঁদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

অন্যদিকে, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের মধ্যে কর্মস্থল থেকে দুই সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার দাবিও জানান সহকর্মীরা।

এদিকে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন তারা।

রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, একজন সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিতে হবে।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা রাজীব ঘোষের অবস্থান তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট করা এবং আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সহসভাপতি ও ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করেই রাজীব ঘোষকে কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক।

তারা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচিত নেতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য অশনিসংকেত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিতে হবে। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। একজন সাংবাদিককে এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগ তৈরি করবে। তারা অবিলম্বে রাজীব ঘোষের মুক্তি দাবি করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ