Views Bangladesh Logo

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী তালিকা করে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে, বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমি মনে করি পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশে অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসন ছিল, যা পুলিশের সম্মানহানি করেছে, কিন্তু পুলিশ নিজে এর জন্য দায়ী নয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হবে, এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত প্রভাব বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে।'

তিনি আরও জানান, 'আমরা শিগগিরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী এবং দাগী আসামিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করব। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। তাই আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করা উচিত নয়।'

মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে সরাসরি মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না। তবে, উপরের স্তরের কর্মকর্তারা প্রয়োজন হলে যে কোনো স্তরের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা এবং এ নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, 'ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা এখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে গেছে এবং এসব যান ভিআইপি ও প্রধান সড়কগুলোতেও চলাচল করছে, যেখানে নন-মোটরচালিত যান নিষিদ্ধ। এই সমস্যা সমাধানে আমরা উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে সচিবালয়মুখী ভিআইপি সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করব, পরবর্তীতে অন্য সড়কগুলোতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মন্ত্রী যানজটের মূল কারণ হিসেবে নাগরিকদের অসচেতন আচরণকেও উল্লেখ করেন, তিনি বলেন, যানজটের পেছনে নাগরিকদের অসচেতন আচরণও দায়ী। অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন না, বাম লেন খালি রাখার নিয়ম অনুসরণ করেন না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে যানজট সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ