জেট ফুয়েলের দাম আরও কমল
উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আবারও কমানো হয়েছে। এবার কমেছে প্রতি লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মে মাস থেকে কমতে থাকায় দেশেও ধারাবাহিকভাবে কমছে জেট ফুয়েলের দর। গত মাসে লিটারে কমানো হয়েছিল ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা, তার আগের মাসে দুই দফায় কমে ৬১ টাকা ১২ পয়সা। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে দুই দফায় ১০৭ টাকা এবং এপ্রিলে এক দফায় ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা বেড়েছিল দাম।
আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর কার্যকর হবে আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করে আসছে সংস্থাটি।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা, যা এত দিন ছিল ১৫০ টাকা ২১ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৯৮০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ধরা হয়েছে ০.৮৫৫৬ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। তাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে। পরে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে থাকে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়া হয় বিইআরসিকে। প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
মতামত দিন