ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ সদস্যকে লাথি, ছাত্রদল নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা
দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে খাস পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের দুই নেতাসহ অজ্ঞাতনামা ৫–৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে ইউএনও তানজিনা খাতুনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাহাদুজ্জামান পরাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে এবং দিওড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অপর আসামি আল আমিন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, খাস পুকুরের ইজারা আবেদন জমা নেওয়ার সময় ইউএনও কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ সময় রাহাদুজ্জামান পরাগ, আল আমিনসহ কয়েকজন ইউএনওর কক্ষের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং আবেদন জমা দিতে বাধা দেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার মোবাইল ফোনে ধারণ করলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। পরে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কনস্টেবল নুরুজ্জামানকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা ইউএনওর কক্ষে ঢুকে তার উপস্থিতিতেই পুলিশ সদস্যদের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।
ঘটনার পর বিকেলে ইউএনওর দপ্তরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাদের বৈঠক হয়। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), সহকারী পুলিশ সুপার এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ঘটনাটি তার সামনেই ঘটেছে কি না—এ বিষয়ে ইউএনও তানজিনা খাতুন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। তবে তিনি নিজে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি এবং অভিযুক্তও অভিযোগ স্বীকার করেননি।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, আহত পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার সময় পেছন থেকে তাকে লাথি মারা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মতামত দিন