Views Bangladesh Logo

প্রায় দুই ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লো ছাত্রদল, যান চলাচল স্বাভাবিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে উপাচার্য (ভিসি) ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে পৌনে দুই ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেছে সংগঠনটি।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্যকে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে বাংলা একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। নিহত সাম্যের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। ওই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভিসি-প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে রোববার (১৮ মে) দুপুরে ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে অপরাজেয় বাংলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন তারা।

বিকেল পৌনে চারটা নাগাদ কয়েকশ’ ছাত্রদলকর্মী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ‘জাস্টিস ফর সাম্য’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এর মতো স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির অবরোধের সমাপ্তি ঘোষণা করলে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে চলে যান বিক্ষোভকারীরা। কিছুক্ষণ পরেই স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এবং উপাচার্য এবং প্রক্টরের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

তারা হুঁশিয়ারিও দেন, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে ছাত্র সংগঠনটি।

অবস্থান কর্মসূচিতে ছিলেন ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট ও ঢাবি শাখার নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে পদত্যাগ না করলে ছাত্রদল ভিসি-প্রক্টরকে চেয়ার থেকে টেনে নামাতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দেন ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার বিচার চান। অথচ, এখন শিক্ষার্থী নামক গ্রুপ বের হয়েছে, যারা হত্যার ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঢাবির ভিসিকে ‘মবক্রেসি’ আখ্যা দিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘ভিসি-প্রক্টরসহ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরাও সাম্যের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। এরপরও কিভাবে এই ভিসি-প্রক্টর তাদের পদে বহাল থাকেন?’।

এর আগে সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে দুপুর ১২টা থেকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ মে) বেলা ১২টায় ঘেরাও কর্মসূচি পালনে করতে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে এসেছিলেন তারা।

সেদিনও তারা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন। পরে থানা পুলিশের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে চলে যান।

সাম্য হত্যা ঘিরে উত্তাল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকা। কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল এবং শাহবাগ থানা ঘেরাও-সমাবেশ করে আসছেন ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তদন্তের বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করেছি। এ পর্যন্ত মামলার আসামি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। তারা হলেন, তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) এবং পলাশ সরদার (৩০)। গ্রেপ্তার তিনজনই মাদারীপুরের বাসিন্দা।

‘তদন্ত চলছে এবং কিলিং মিশনে অংশ নেয়া ও জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে নিরলসভাবে কাজ করছি’- যোগ করেন তিনি।

ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সাম্য হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ ছাড়াও দেশজুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। সেসব কর্মসূচিতে সাম্য হত্যার তদন্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ধরে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানানো হয়।



মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ