এআই অবকাঠামো শক্তিশালী করতে ডেটা সেন্টার চার গুণ বাড়াবে জাপান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে ডেটা সেন্টার অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। আগামী আট বছরে দেশটিতে এআই ডেটা সেন্টারের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ সফল হলে এআই অবকাঠামোর সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর জাপান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসতে পারে। খবর নিক্কেই এশিয়ার।
ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠানই জাপানে নতুন এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন হওয়ায় দেশটির প্রযুক্তি খাতে ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের হিসাবে, এক গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার নির্মাণে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী জাপানে পরিকল্পিত নতুন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ হিসাবের সঙ্গে উচ্চক্ষমতার সার্ভার, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য প্রসেসিং সরঞ্জামের খরচ যুক্ত হলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে।
এদিকে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির এআই খাতের চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ৪ দশমিক ২ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার সক্ষমতা প্রয়োজন হবে।
এই চাহিদা বিবেচনায় নিজেদের অবকাঠামো সম্প্রসারণে এগিয়ে এসেছে জাপানের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনটিটি গ্রুপ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা ২ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সফটব্যাংকও দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বাড়িয়ে ২৫৫ মেগাওয়াট করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কম্পিউটিং অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাপানের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এআই উন্নয়ন, ক্লাউড কম্পিউটিং ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পথ তৈরি করতে পারে।
মতামত দিন