লিঙ্গ পরীক্ষায় ব্যর্থ জান্নাত ও কবিতা নিষিদ্ধ, সব পদক বাতিল
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট কবিতা রায়কে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত নারী বিভাগে তাদের অর্জন করা সব পদক ও রেকর্ড বাতিল করে পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশের অ্যাথলেটিক্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জান্নাত ও কবিতার নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর অভিযোগের পর তাদের শারীরিক ও হরমোনগত পরীক্ষা করাতে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলার পর ২০২৬ সালের ১১ মে পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়। ১৬ মে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জান্নাত বেগম (২৮) ও কবিতা রায়ের (১৯) ক্ষেত্রে ৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি—অর্থাৎ যৌন বিকাশের ভিন্নতা—সংক্রান্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস এবং ইনগুইনাল ক্যানেলে গোনাড থাকার কথাও বলা হয়েছে।
হরমোন পরীক্ষাতেও দুজনের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারিত সীমার ওপরে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনএমওএল/এল এবং কবিতার ১৬ দশমিক ৫০ এনএমওএল/এল পাওয়া যায়। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ডিএসডি বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইভেন্টে অংশ নিতে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২ দশমিক ৫ এনএমওএল/এল-এর নিচে রাখতে হয়।
ফেডারেশন জানিয়েছে, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন এবং বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালার ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জান্নাত ও কবিতাকে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ মোট ১১টি পদক বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক।
অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত পদকও বাতিল করা হয়েছে। তার ক্ষেত্রে দুটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাতিল হওয়া পদকগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার ফলাফলে পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে বিধি অনুযায়ী পুনর্বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন।
মতামত দিন