ঈদযাত্রার চাপ, ৬ দিনে যমুনা সেতুতে টোল আদায় ২০ কোটি টকারও বেশি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে ঈদযাত্রার ছয় দিনে যমুনা সেতু-এ রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) থেকে বুধবার (২৭ মে) পর্যন্ত সময়ে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫০ টাকা টোল আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, এই ছয় দিনে সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে মঙ্গলবার (২৬ মে)। ওই দিন একদিনেই ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন সেতু অতিক্রম করে, যা ঈদযাত্রার মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। ওইদিন টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা।
সর্বশেষ বুধবার (২৭ মে) ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৮৮৯টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা। ঈদ শেষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের চাপ থাকায় ওই দিনও যানবাহনের প্রবাহ ছিল তুলনামূলক বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছিল। বিশেষ করে ঢাকা–টাঙ্গাইল–বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
এছাড়া চার লেন মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের যানজট কম দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে যেখানে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকত, সেখানে এবার যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কন্ট্রোল রুম, টোল বুথ বৃদ্ধি এবং জরুরি টিম মোতায়েন করা হয়েছিল। ফলে যানবাহন চলাচল অনেকাংশে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মহাসড়ক সম্প্রসারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় ঈদযাত্রায় চাপ থাকা সত্ত্বেও আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে