জামায়াতের সাইবার সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে: নুর
জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশকে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত করা হয়েছে। জামায়াতের সাইবার আক্রমণের কারণে সরকারি দলের অনেকেই কথা বলেন না, অনেকে কথা বলার সাহসও করেন না। এই সাইবার সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে অন্যদের আক্রমণ করলে সেটিকে ইসলামী আদর্শের রাজনীতি বলা যায় না। জামায়াতে ইসলামী যদি ইসলামের আদর্শে রাজনীতি করে, তাহলে তাদের নেতাকর্মীদের আচরণেও ইসলামের শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইবার অপপ্রচার ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
সরকারে গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নুর বলেন, সরকারের উচিত মিত্রদের যথাযথ মূল্যায়ন করা। মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে তা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা যখন রাজপথে আন্দোলন করেছি, তখন অনেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। বড় রাজনৈতিক সংকটের সময় যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে নুরুল হক নুর বলেন, এসব অপপ্রচারে তারা বিচলিত হবেন না। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।
আগামী নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নুর বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদ জনগণের পাশে থেকে ভূমিকা রাখবে। দেশের স্বার্থে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই তারা কথা বলবেন।
মতামত দিন