ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে সমালোচনায় জামায়াতের এমপি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল গফুর। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি ও তথ্য সংসদ সদস্যের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশের পর প্রশাসনিক প্রটোকল ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনওকে ফুলের তোড়া ও একটি বই উপহার দেন। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, মিরপুরবাসীর পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার বিষয়টি সামনে এনে প্রশ্ন তোলেন। কেউ মন্তব্য করেন, একজন সংসদ সদস্যের সরকারি কর্মকর্তাকে এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া প্রটোকলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিবেচনার দাবি রাখে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর কুষ্টিয়া শাখার নেতা ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, একজন সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে ফুল দেওয়া রাজনৈতিক প্রভাবের বার্তা দিতে পারে এবং এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আগেই তাঁর আগমনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে সংসদ সদস্য সৌজন্য সাক্ষাতে এসে ফুল ও একটি বই উপহার দেন।
তিনি আরও জানান, যেহেতু জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে, তাই এটিকে তিনি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হিসেবেই দেখছেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
মতামত দিন