ভিডিও ভাইরালের পর জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি, নারীকে স্ত্রী দাবি
মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে থাকা অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলাম আটক হয়েছেন বলে দাবি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর তাঁকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিজের ফেসবুক পোস্টে ভিডিওতে দেখা নারীকে স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তাইজুল ইসলাম।
তাইজুল ইসলাম নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর বাবার নাম আব্দুর রহমান মিয়াজী। ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যা থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।
শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হতে তাঁদের কাছে আসেন। নিলখী ইউনিয়ন উপজেলা শহর থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে দলীয় প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাইজুল ইসলামকে। স্থানীয়রা তাঁকে ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে চিনতেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তাইজুল ইসলামকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও চিকিৎসার কথা বলে তাইজুল ইসলাম পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁক করতেন। এভাবে নারীদের বাড়িতে ডেকে এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে এনে তাঁদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা হতো। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মিন্টু মাতুব্বর জানান, তাইজুল ইসলামের পূর্বপুরুষেরা কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, তাইজুল ইসলাম চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। চিকিৎসার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাইজুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা নারী তাঁর স্ত্রী। তিনি আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বক্তব্য জানতে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সরোয়ার হোসেন মৃধার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মতামত দিন