শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (২৬ জুন)। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমীর মা জাহানারা ইমাম ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে নিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন। সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। একই বছরের ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণআদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ডের প্রতীকী রায় দেওয়া হয়, যা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রায় আড়াই বছর ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী জাহানারা ইমাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত বেদনাময় স্মৃতিকে ধারণ করে লেখা তার গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনলিপি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। তার ডাক নাম ছিল জুড়ু। জাহানারা ইমামের বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। মায়ের নাম সৈয়দা হামিদা বেগম। জাহানারা ইমাম ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৪২ সালে। ১৯৪৪ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ পাস করে ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে বিএ পাস করেন ১৯৪৭ সালে। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯৬৪ সালে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে ফিরে ১৯৬৫ সালে বাংলায় এমএ পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ছেলে রুমী শহীদ হন। স্বামী শরিফ ইমামও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এক সন্তান হারিয়ে সারাদেশের সব মুক্তিযোদ্ধার জননী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সবার কাছে পরিচিত হয়েছিলেন শহীদজননী হিসেবে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল এবং পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য তার অবদান আজও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
মতামত দিন