ইসরায়েলি হামলা, আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান, সিরিয়া ও ইরাক
ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার জেরে দেশটির পাশাপাশি নিজ নিজ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া এবং ইরাকও।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়েই চলায় আকাশসীমা সুরক্ষিত করার নজিরবিহীন এই পদক্ষেপে শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দেশ তিনটির আকাশসীমায় বেসামরিক, বাণিজ্যিক এবং সামরিক ফ্লাইটগুলোকে উড়তে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে ভোর থেকে ইরানজুড়ে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১ অক্টোবর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিশোধ নিতে ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ সুনির্দিষ্ট এই হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। দুই কর্মকর্তা জানান, এটি পারমাণবিক বা তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
হামলার পর পরই আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছে ইরান। যদিও এর আগে সকাল নয়টায় খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল দেশটি। ইরানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে থামানো ফ্লাইটগুলো থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আনা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের আরও পদক্ষেপের শঙ্কা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন ইরানিরা।
ফ্লাইটের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েল থেকে তেহরানের দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার। উচ্চ উচ্চতায় ২,৪০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা (ম্যাক ২.০) গতিতে সক্ষম একটি এফ-১৬ জেট এবং ১,৯৩১ কিমি/ঘণ্টা (ম্যাক ১.৬) পর্যন্ত এফ-৩৫ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তেহরান থেকে ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফিরতে আনুমানিক ৫০ মিনিট সময় লাগবে। যদি মাঝ-বাতাসে পুনরায় জ্বালানি দেওয়া হয় তবে নির্দিষ্ট অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে এই সময়টি অতিরিক্ত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বাড়তে পারে।
ইসরায়েলি অভিযানের প্রভাব তাই আকাশপথে আঞ্চলিক ভ্রমণের ওপর পড়েছে এবং এয়ারলাইন্সগুলোর উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে। যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার শঙ্কার পাশাপাশি রয়েছে পরিস্থিতির উন্নয়নের প্রত্যাশাও।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে