আরও ১১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির তৃতীয় ধাপে আরও ১১০ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
বিনিময়ে পাঁচজন থাই নাগরিক এবং তিনজন ইসরায়েলিসহ আটজন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস এবং অন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোও।
মুক্তি পেতে যাওয়া তিনজন ইসরায়েলি জিম্মি হলেন আরবেল ইয়েহুদ, আগাম বারগার এবং গাদি মোজেস। পাঁচজন থাই নাগরিককের পরিচয় এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংস্থা প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির অধীনে এই ধাপে মুক্তি পেতে যাওয়া বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা রাদানার বাসিন্দা।
তাদের ২০ জন বাদে সবাই বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ১২টায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই ২০ জনকে বিদেশে নির্বাসিত করা হবে।
জেল অ্যাডভোকেসি ক্লাবটি মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের নাম ও বয়সের তালিকাও প্রকাশ করেছে, যাতে কমপক্ষে ৩০ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত।
আগের দু’দফার বন্দি বিনিময়ে সাতজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হয়, যার বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন ২৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি।
শনিবারের (২ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ বন্দি বিনিময়ে আরও তিনজন ইসরাইলি পুরুষ মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ১১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মধ্যে মুক্তি পাচ্ছেন সন্ত্রাসের দায়ে দণ্ডিতরাও। তাদের ৩২ জন আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৪৮ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরের বাসিন্দা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা ও প্রাক্তন থিয়েটার পরিচালক জাকারিয়া জুবেদি এবং তার সহযোগী মাহমুদ আতাল্লাহ ও আহমেদ বারঘৌটি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কারাগার থেকে মুক্তির পর নিজ বাড়ি পশ্চিম তীরেই ফিরে যাবেন ৪৯ বছরের জুবেদি। আলোচিত দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) নিয়ন্ত্রণকারী ফাতাহ পার্টির আল-আকসা শহিদ ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন তিনি। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হামলায় নেতৃত্ব দেন তিনি।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ প্রচারে ২০০৬ সালে জেনিন শরণার্থী শিবিরে দ্য ফ্রিডম থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন জুবেদি। ২০১৯ সালে তাকে গ্রেপ্তার হয়ে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা সংবলিত উত্তর ইসরায়েলি কারাগার গিলবোয়ায় বছরের পর বছর বন্দি ছিলেন তিনি।
২০২১ সালে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ছয় বন্দির একজন জুবেদি, যাকে পরে ফের আটক করা হয়। সুড়ঙ্গপথে নাটকীয় ওই জেল পালানোর ঘটনা ফিলিস্তিনিদের রোমাঞ্চিত এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হতবাক করেছিল৷ ফিলিস্তিনিদের মাঝে বীর ও নায়ক হিসেবে জুবেদির মজবুত ভাবমূর্তি রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে