রমজানে আল-আকসায় নামাজ পড়তে পারবেন মুসল্লিরা
চলতি বছরেও আসন্ন রমজানে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন মুসল্লিরা। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। যদিও এর আগে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল না ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিগত বছরগুলোতে রমজানের প্রথম সপ্তাহে যত সংখ্যক মুসল্লি টেম্পল মাউন্টে (আল-আকসা) আসতেন, এ বছরও তাতে কোনো ব্যতিক্রম হবে না। তবে প্রতি সপ্তাহে জেরুজালেম ও টেম্পল মাউন্ট এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে কয়েক দিন আগেও এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন গিভির বলেছিলেন, এবারের রমজানে আল-আকসায় পশ্চিম তীরের মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া ‘উচিত হবে না’।
তিনি আরও বলেন, প্রথমত, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, আমরা এখন এই ঝুঁকি নিতে পারি না। দ্বিতীয়ত, যেখানে আমাদের নারী ও শিশুরা গাজায় জিম্মি হিসেবে আটক রয়েছে, সেখানে (রমজান মাসের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে) টেম্পল মাউন্টে হামাস তা উদযাপন করবে-এমনটাও আমরা হতে দিতে পারি না।
তার এই মন্তব্যের পর সম্প্রতি রমজান মাসে আল আকসায় মুসল্লিদের নামাজ পড়তে দিতে ইসলায়েলকে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘এটি কেবল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়াই নয় বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তার সঙ্গেও ব্যাপারটি সম্পর্কিত। পশ্চিম তীরে বা বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়ালে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।’
আরবি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ১০ বা ১১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস।
প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলোতে রমজান মাসে পবিত্র আল-আকসায় নামাজ আদায় করে আসছেন মুসলিমরা । গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন আক্রমণ চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলের দাবি, ওই হামলায় হামাস যোদ্ধারা প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা ও ২৫৩ জনকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজা উপত্যকায় টানা পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গাজায় পাঁচ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে