১৮ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করলো আইএসপিআর, চিকিৎসাধীন ১৬৪
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৮ জনের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৪ জন চিকিৎসাধীন বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দুজন, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দুজন, উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতালে দুজন ও উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে একজনসহ মোট ১৮ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
এতে আরও জানানো হয়, বর্তমানে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আটজন, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ৭০ জন, ঢাকা সিএমএইচে ১৪ জন, উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, উত্তরা আধুনিক হসপিটালে ৬০ জন ও উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে একজনসহ মোট ১৬৪ জন চিকিৎসাধীন।
এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থালে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, ‘বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন’। সে সময় পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলাম সাগরও ছিলেন বলে জানা যায়। তবে পাইলটের মৃত্যুর খবর এখনো নিশ্চিত করেনি আইএসপিআর।
নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা লিমা খানম জানান, ‘তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলেই। আশঙ্কাজনক চারজনকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়েছে’।
এছাড়া জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থী মো. জুনায়েত হাসানের মৃত্যু ঘটেছে তাদের হাসপাতালে। মাইলস্টোনের তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর (কোড ২০৬৬) অভিভাবকদেরও খোঁজ করছে কর্তৃপক্ষ। দেড় শতাধিক আহতের বেশিরভাগই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী বলেও জানিয়েছে চিকিৎসা দেয়া হাসপাতালগুলো।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছেন। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক’।
অন্যদিকে বার্ন ইন্সটিটিউটে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছে। তারা বার্ন ইন্সটিটিউট, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও উত্তরার আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এই সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ অন্তর্বতী সরকারের ছয়জন উপদেষ্টা তার সঙ্গে ছিলেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে