চট্টগ্রামের সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, দাবি ইসকনের
সম্প্রতি একটি ধর্মীয় সংগঠনকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার ঘটনাকে ঘিরে চট্টগ্রামের সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে ইসকন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন হাজারী গলি এলাকায় হামলা-ভাঙচুরসহ সহিংসতার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনা সমাজের শান্তি, সৌহার্দ ও নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসকন বাংলাদেশকে নানাভাবে জড়িয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব ঘটনার সঙ্গে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
ইসকনের দাবি, চট্টগ্রামের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তারা জানেন না।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ওসমান আলী নামে এক ব্যবসায়ীর দেয়া ইসকনবিরোধী ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীর টেরিবাজার এলাকার হাজারিগলিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে আনুমানিক ৫০০-৬০০ জন দুষ্কৃতিকারী হাজারী লেনে ওসমান ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-কমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, জরুরি জাতীয় পরিষেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসমান আলীকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। এ সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা পুলিশের কাছ থেকে ওসমান আলীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে যান। উচ্ছৃঙ্খল জনতার নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে একজনকে অ্যাসিড মারা হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও আহত হয়েছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, পরে ওই ঘটনায় বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে পোস্ট শেয়ারকারী ওসমান আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে