শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ চায় বাংলাদেশ
টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাত প্রতিরোধ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক (ডব্লিউপিএস) এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিতর্কে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব প্রণয়নে বাংলাদেশের সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এজেন্ডাটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সংঘাত ও সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধের বিস্তার ঠেকানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের উদ্যোগ কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ছয় বছর আগে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যায়ে নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইরিন খান বলেন, সংঘাত প্রতিরোধে কিশোরী ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও মধ্যস্থতার কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা সহিংসতা প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে পারে।
এ সময় নারী অধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত অর্থায়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার উদ্যোগ তখনই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী হবে, যখন নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নারীরা কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মতামত দিন