ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মাঝপথে আটকে ভারতের ১৪ হাজর টন চাল
ইরান-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শুধু রাজনীতি বা সামরিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্যের বাজারেও। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতের প্রায় ১৪ হাজার টন চাল মাঝপথে আটকে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে চাল রপ্তানি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া।
দিল্লির একাধিক চাল রপ্তানিকারক সংস্থা বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি বাসমতি চাল ইরানে ৭১ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৫৯ টাকায়। এতে প্রতি কেজিতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১২ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
২০২৪ সালে ভারত ইরানে ৫২ লাখ টন বাসমতি চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল প্রায় ৬ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই বাণিজ্যে বিশাল ধস নামিয়েছে। শুধু ইরান নয়, সৌদি আরব ও ইরাকেও চাল পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে।
চিন্তিত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
রাজস্থানের কোটা মন্ডিতে এখন পর্যন্ত তিন কোটিরও বেশি বস্তা ধান জমা হয়েছে, কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই। মধ্যপ্রদেশের হাদোতি অঞ্চল থেকে আসা কৃষকরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন ধানের দাম কুইন্টালপ্রতি ৫০০ টাকার মতো কমে গেছে। আগে যেখানে এক কুইন্টাল ধানের দাম ছিল ৩ হাজার ৯০০ টাকা, এখন তা নেমে এসেছে ৩ হাজর ২০০ টাকায়।
কোটা মান্ডির ব্যবসায়ী বিকাশ চাঁদ জৈন বলেন, 'প্রতি বছর আমরা হাজার-হাজার টন চাল ইরান, ইরাক ও দুবাইতে পাঠাই। এবার যুদ্ধের কারণে সব কিছু থমকে গেছে। বন্দর ও পেমেন্ট সিস্টেম কার্যত বন্ধ।'
চালকল মালিকরা বলছেন, রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টোরেজে আর জায়গা নেই। এভাবে চলতে থাকলে অনেক চালকলকেই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
এদিকে চালবোঝাই অনেক জাহাজ এখন সমুদ্রের মাঝখানে আটকে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি থাকায় বীমা সংস্থাগুলিও সরে দাঁড়িয়েছে, ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ সংকটে পড়েছেন।
দিল্লির রপ্তানিকারক শচীন শর্মা বলেন, 'এটা কোনো সাধারণ ক্ষতি নয়, বড় ধরনের আর্থিক ধস। সরকারের উচিত এখনই রপ্তানিকারকদের সহায়তা করা।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী চাল বাণিজ্যে ভারতের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ, যার ৬০ শতাংশই উপসাগরীয় দেশগুলোতে যায়। যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু চাল রপ্তানিতে নয়, গোটা কৃষি অর্থনীতিতে পড়বে।
এখন দিল্লি থেকে কোটা—সবাই তাকিয়ে আছে ভারতের সরকারের দিকেই, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
মতামত দিন