খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারত ইরানকে তার বিস্তৃত প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
পশ্চিম এশিয়ায় টানা ৪০ দিনের সংঘাত চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করেন। সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়।
যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রিকস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভারত সফর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে ভারতের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করবে।
মতামত দিন