Views Bangladesh Logo

‘ইন্টারনেট খাতের উন্নয়নে সংস্কার ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন’

দেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন এবং ইন্টারনেট সেবার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা গ্রহণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেছেন, বিটিআরসিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৪২ শতাংশ কর এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের ৫.৫ শতাংশ রাজস্ব দিতে হয়।

ইন্টারনেটের দাম কমাতে এই খাতের পুনর্গঠন প্রয়োজন মন্তব্য করে ইন্টারঅপারেবল, ওপেন টেকনোলজি স্ট্যান্ডার্ড এবং ইক্যুইটেবল অ্যাকসেস নিশ্চিতেরও পরামর্শ দেন তিনি।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সুপারিশ’ বিষয়ক সভায় ইন্টারনেট খাতে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন ফাহিম মাশরুর। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বর্তমান অবস্থার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

ডিজিটাল সেবার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ফাহিম মাশরুর বলেন, দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও নীতিগত বাধা রয়ে গেছে।

দুদিনের এ সভার আয়োজক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

ফাহিম মাশরুর বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল সেবা নিয়ে নানা ভুল নীতিমালা হয়েছে। ফলে নাগরিক সেবা সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আজও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে, যা জনগণের সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা’।

সভায় গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের পার্থক্য দেখিয়ে দেশের বর্তমান ডিজিটাল বৈষম্যের অবস্থা তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। জানান, শহরগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে গড়ে ১৫০জিবি ডেটা ব্যবহৃত হয়, যেখানে গ্রামে এই পরিমাণ মাত্র ৬.৫জিবি।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী সভায় বলেন, ইন্টারনেট সেবার উৎপাদনশীল ব্যবহার বাড়ানো এবং আইএসপিকে ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক বড় কোম্পানি গ্রামীণ অঞ্চলের ডিজিটাল চাহিদা পূরণে উপযুক্ত সেবা দিচ্ছে না। ফলে উপযুক্ত সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামের মানুষ।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকে অন্তর্ভুক্তি ও সংযুক্তির ক্ষেত্রটি যেভাবে এগিয়েছিল, আজও তেমনই ডেটার প্রবৃদ্ধি ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে চলা উচিত।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সরকারের একক উদ্যোগে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতের উদ্যোগকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’।

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা মাহমুদ হুসাইন বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছেন। দেশি উদ্যোক্তারা ৫০০ টাকায় আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা দিলেও এর বেশিরভাগ খরচই বিদেশি এনটিটিএন এবং ব্যান্ডউইথ খরচে চলে যায়। ফলে এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে খুব কমই অবদান রাখা সম্ভব হয়।

সভায় বক্তব্য দেন বিআইডিএসের গবেষক ড. মঞ্জুর, টালিখাতার সিইও ড. শাহাদাত খান, গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত এবং শেয়ারট্রিপের সিইও সাদিয়া হকসহ অন্য বিশেষজ্ঞরাও।

তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং অন্য প্রতিনিধিরাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ