Views Bangladesh Logo

ইউপি নির্বাচন: ভোটের তারিখ চূড়ান্তে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক আজ

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাত ধাপের এই নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসছে। এতে ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান/প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাত ধাপের এই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান বা প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সভার আলোচ্যসূচিতে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়টিও রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ইসি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর উল্লেখ করেছিলেন।

তবে এই সম্ভাব্য তারিখের বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।

একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, ইসি কর্তৃক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন তিনি।

এদিকে নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আচরণবিধি জারি করেছে ইসি। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউপিতে জামানতের পরিমাণ ও নির্বাচনী ব্যয় বাড়িয়ে নির্বাচন বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ অন্তত পাঁচটি সংশোধনী প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। তবে সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন গত ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ায় এবং পরবর্তী অধিবেশন ১০ নভেম্বরের মধ্যে আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকায় আইন সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে নাকি বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন হবে—তা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি বৃদ্ধি, দ্বৈত নাগরিক ও এমপিওভুক্তদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা এবং খেলাপির জামিনদার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব এই সংশোধনীর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে এমপিওভুক্তদের ভোটে অযোগ্য করার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

ইসির এসব প্রস্তাবের বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা আইনে সংশোধন প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন তা আইন বা অধ্যাদেশে সংশোধন করবে কি-না তা সরকারের বিষয়। কমপক্ষে তফসিল ঘোষণার সময় এ সংশোধনগুলো হলে তা বাস্তবায়ন করা যাবে।’

তবে আইনের নতুন কোনো বিধান যুক্ত হলে তা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই কার্যকর হতে হবে, যাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা অনুসরণ করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে কমিশনার রহমানেল মাছউদ আরও যোগ করেন, ‘ইসির নতুন সুপারিশ আমলে না নিলে বা সরকার কোনো সংশোধনী না আনলে বিদ্যমান আইনের আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সরকার ইসির প্রস্তাব অনুমোদন না করলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে অংশ নিতে কোনো আইনি বাধা থাকবে না। তবে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ