Views Bangladesh Logo

মার্কিন চুক্তির কিছু অংশ প্রকাশ করলো অন্তর্বর্তী সরকার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির কিছু অংশ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে চুক্তির নির্বাচিত অংশ বাংলায় অনুবাদ করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। এর পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করে ৩০ আগস্ট নতুন হার ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত হয় ২০ শতাংশ।

পরবর্তীতে টানা নয় মাসের আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এ আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দেয়। সহায়তা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, শুল্ক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, উৎপত্তির বিধান, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতাসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকার জানায়, বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে যুক্ত থাকায় নতুন কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ হয়নি।

চুক্তিতে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য আরটি-হারে বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত মোট পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৫০০ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য ৭ হাজার ১৩২টি ট্যারিফ লাইনে ধাপে ধাপে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ৪ হাজার ৯২২টি ট্যারিফ লাইনে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শূন্য শুল্ক। ১ হাজার ৫৩৮টি ট্যারিফ লাইনে পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে শূন্য শুল্ক। ৬৭২টি ট্যারিফ লাইনে ১০ বছরে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে। ৩২৬টি ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি।

চুক্তিতে কাগজবিহীন বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব প্রয়োগ, নন-ট্যারিফ বাধা কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ, সুশাসন, জ্বালানি ও পারমাণবিক খাত, কৃষি জৈবপ্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা, অবৈধ মাছ ধরা রোধ, শ্রম আইন হালনাগাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, সয়াবিন, গম, তুলা ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির বিষয়ও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

সরকার বলেছে, চুক্তিতে প্রস্থান ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে প্রয়োজনে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, এ চুক্তি বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ