স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে খুনের জেরে হাসপাতালে ঢুকে আরেকজনকে হত্যা
বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’পক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে বগুড়ার গোকুল এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সোমবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১ টার দিকে সালমান হোসেন ল্যাদো নামে একজনকে শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মারধর করে হত্যা করা হয়।
এর আগে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ল্যাদো। পরবর্তীতে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পরই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় তড়িঘড়ি করে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও হামলা থেকে বাঁচানো যায়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে আহত ল্যাদোকে মারধর করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও শুধু দাঁড়িয়েই ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকদেরও মারধর করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
তবে এসব বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন।
এ ঘটনার কয়েকজন প্রতক্ষদর্শী জানান, ল্যাদোকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরই তিনি হামলার শিকার হন। তাকে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো সুযোগই পাননি চিকিৎসক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ল্যাদোর লাশ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
ল্যাদো গোকুল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার ওপর হামলার সময় শজিমেক হাসপাতাল চত্বরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একই দিন রাত ৯ টার দিকে বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় মিজানুর রহমান মিজান নামে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত মিজান বগুড়া সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গোকুল এলাকার আফসার আলীর ছেলে তিনি। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী জানান, সদরের গোকুল ইউনিয়ন যুবদলের বহিস্কৃত নেতা বিপুল ও তার লোকজন পাঁচটি মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে মিজানকে হত্যা করেন। নিহত ল্যাদো বিপুলের দলের লোক ছিলেন এবং সম্পর্কে বিপুলের আত্মীয়। মিজানকে মারধরের পর বিপুলসহ তার লোকজন পালিয়ে যাওয়ার সময় ল্যাদো প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে ধরা পড়েন। ওই সময় ল্যাদো মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বগুড়ার ছিলিমপুর (মেডিকেল) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মিলাদুন্নবী বলেন, নিহত মিজান ও ল্যাদোর মরদেহ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে