বাংলাদেশিদের ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা বহালে সহযোগিতার আশ্বাস ইন্দোনেশিয়ার
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা বহাল রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতি। এ সময় দুই দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশি পর্যটকদের ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ সহজ করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে পর্যটনসেবা, আতিথেয়তা, প্রশিক্ষণ এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উঠে আসে।
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়া একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বজায় থাকবে এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন যোগাযোগ আরও বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিমান পরিবহন ও পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে দেশের পর্যটন খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতি। তিনি ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা বহাল রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমান সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেল।
মতামত দিন