Views Bangladesh Logo

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন: শামা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে হলে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ যেসব আসামির বিচার বাংলাদেশে হয়ে গেছে বা হওয়া প্রয়োজন, তাদের বিষয়ে সরকার বারবার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ও চিঠি দিচ্ছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, ভারত এসব চিঠির জবাব দেবে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করবে।

শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে না বলে মনে করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক তার নিজস্ব জায়গাতেই থাকবে, কেননা যেকোনো দুই দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক হয়ে থাকে।

বিমসটেকের একটি বৈঠকে বাংলাদেশের এক উপদেষ্টার সাম্প্রতিক ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিনিময় ও সংলাপ চলমান প্রক্রিয়ারই অংশ এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে বিচারের বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্র ও ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি জুলাই মাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের জন্য একটি নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তাদের সন্তানদের যারা হত্যা বা আহত করেছেন, তাদের বিচার হতে দেখতে চান ওই পরিবারগুলো। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। চলতি জুলাই মাসে এই দাবি আরও জোরালো হচ্ছে যে, যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতেই সাজা কার্যকর হওয়ার বিষয়টি দেখতে চান দেশের মানুষ।

আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। যেহেতু শেখ হাসিনার সাজা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, তাই আইনিভাবে তার আর আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যখনই বাংলাদেশে আসবেন, আইন অনুযায়ী তাকে তখনই গ্রেপ্তার করা হবে।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় থেকে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার মতো আরও কিছু আসামি—যেমন হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তরা—এখনো ভারতে অবস্থান করছেন, আর তাদের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম ও কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসরণ করা হবে। এই দুই প্রক্রিয়া মেনেই সম্ভবত শেখ হাসিনা ফিরবেন এবং ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার হবেন বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে তাকে ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি (ট্রাভেল ডকুমেন্ট) দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট বা ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত, তাই এ বিষয়ে ভালো জবাব তারাই দিতে পারবে। তবে সাধারণভাবে তার ধারণা, এই প্রক্রিয়া ভারত সরকারের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকার যদি প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে গতি আনে, তাহলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি তৈরি হবে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার জন্য সাধারণত ছবিযুক্ত একটি পরিচয়-সংক্রান্ত ভ্রমণ নথিই যথেষ্ট, যা ভারত সরকার বা বাংলাদেশ সরকার, যেকোনো পক্ষই সরবরাহ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই ভালো বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ