'গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে চায় ভারত'
বাংলাদেশে গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ইসলামি উগ্রবাদীদের অব্যাহত মুক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘মারাত্মক উদ্বেগের’ বিষয় বলে মনে করছে ভারত। গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতেও আগ্রহী প্রতিবেশী দেশটি।
বুধবার (২৬ মার্চ) ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে এ অঞ্চলের জন্য প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজের সীমান্ত সুরক্ষায় প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়।
নয়াদিল্লির ওই বৈঠকে ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ’ব্যাকগ্রাউন্ড নোট’ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় ছাড়াও ‘কট্টরপন্থার উত্থান’, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা’ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ওই নোটে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সে অনুসারে, বিএনপি, জামায়াত ও অন্য দলগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
'তবে নির্বাচনের আগে সংস্কারের সময়সীমা অস্পষ্টই রয়ে গেছে। অন্যদিকে দ্রুত নির্বাচন দিতে সরকারের ওপর বড় দলগুলোর ‘চাপ’ বাড়ছে'।
ব্যাকগ্রাউন্ড নোটে বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি অপরাধ, সম্পত্তি ভাঙচুর, ‘মব’ তৈরি করে বেআইনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নিয়মিতই হচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রকাশ্যে এসব ঘটনায় সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের দলাদলি ও দ্বন্দ্ব দেশের জন্য হুমকি'।
'রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে জনপরিসরে উগ্রবাদী গোষ্ঠিগুলোর ধর্মীয় বিষয় টেনে আনার ঘটনা' বাড়ার কথা তুলে ধরে সেখানে বলা হয়েছে, 'এই গোষ্ঠিগুলো ‘ইসলামি খিলাফত’ এর আদর্শ লালন করে'।
নোটের শুরুতেই বলা হয়েছে, '২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পারস্পরিক স্বার্থ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক সম্পর্ক কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রেখে আসছে। ভারত গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে আগ্রহী। তারা চায়, জনকেন্দ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক'।
হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ভারতের প্রত্যাশার কথা বাংলাদেশকে জানানো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে বার বার তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে ওই নোটে।
এতে বলা হয়েছে, 'বার বার বিষয়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তোলা হয়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ৮৮ ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয়া হয়। ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকার, রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে বার বার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সংখ্যালঘুদের ‘পদ্ধতিগত নিপীড়নের’ কথা শুধু অস্বীকারই করেনি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা ও ধরনকে গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টারা সংখ্যালঘুদের প্রতি নৃশংসতাকে সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন হিসেবে দাবি করেছে। এগুলোকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে স্বীকার না করে আওয়ামী লীগ করার কারণে ‘রাজনৈতিক রোষে হত্যার শিকার’ বলে ‘ন্যায্যতা’ দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে