‘এক মাসের মধ্যে’ বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভারতের ভিসা চালু হতে পারে
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবারও চালু হতে পারে এক মাসের মধ্যেই। ভারতের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিক থেকে জুনের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি চলছে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।
দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য সীমিত আকারে ভিসা কার্যক্রম চালু রেখেছে, যার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেডিকেল ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়ে এখন সক্রিয় আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে ভিসা, কনস্যুলার সেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায়। পরে ধীরে ধীরে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে।
এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, শুল্ক, পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানা গেছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বিভিন্ন ইস্যুর সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
আগে বাংলাদেশিদের জন্য ভারত প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার ভিসা ইস্যু করত। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তা কমে এক থেকে দেড় হাজারে নেমে আসে। এরপর চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পর্যটন ভিসা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।
এখন ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশি পর্যটক, রোগী ও ভ্রমণকারীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পারিবারিক ভ্রমণে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মধ্যে মানুষের চলাচল যেমন বাড়বে, তেমনি বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে