দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
তারেক রহমানের ভারত সফর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়োজনের চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে জোরালো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সফরটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে ভারত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরটি হলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পাশাপাশি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা সুবিধা এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা কিছু বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পথ খুলতে পারে।
দ্য হিন্দু বলছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ৯ আগস্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগে থেকেই একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানও সেই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ভারতের মাটি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ভারতীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত ইস্যুতে আলোচনা আটকে গেলে বর্তমান কূটনৈতিক সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
সূত্রগুলো মনে করছেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের চেয়ে তারেক রহমানের একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি। কারণ, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় এবং সে কারণে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মূল গোলটেবিল বৈঠকে তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করেছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সদস্যরা চলতি মাসের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আরেকটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। সূত্রগুলোর মতে, এমন কোনো আয়োজন দুই দেশের আলোচনায় তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, এই সম্ভাব্য সফরকে তা কাটিয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন