বাংলাদেশকে ‘রিয়েল-টাইম’ বন্যার তথ্য দিচ্ছে ভারত
ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এর মধ্যেই জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে রিয়েল-টাইম বন্যাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ভারত।
সূত্রগুলোর দাবি, সময়োপযোগী হাইড্রোলজিক্যাল তথ্যের আদান-প্রদান বন্যার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে প্লাবনপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা চলছে। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভারত গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে নদীর পানির স্তর, প্রবাহের হার, বৃষ্টিপাতের তথ্য এবং পূর্বাভাস-সংক্রান্ত মূল্যায়ন নিয়মিত বাংলাদেশেকে জানিয়ে আসছে। এসব তথ্য নদীর পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আগাম সতর্কতা জারি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যবহৃত হয়।
মৌসুমি জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২২ সালে দুই দেশ বার্ষিক বন্যার তথ্য বিনিময়ের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগে প্রতি বছর ১ মে থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদান হলেও সংশোধিত ব্যবস্থায় এখন তা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চালু থাকে। এতে মৌসুমের শেষভাগের বন্যা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
তথ্য আদান-প্রদানের গতি বাড়াতে ২০২৩ সালে ভারতের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেন। এর ফলে রিয়েল-টাইম বন্যার পূর্বাভাস ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য দ্রুত বিনিময় করা সম্ভব হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছাতে বিলম্ব কমছে।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ ভারতের উজানের রাজ্যগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাসও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগত তথ্য হিসেবে কাজ করছে। এসব তথ্য উজানের অবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দুর্যোগ মোকাবিলার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মতামত দিন