হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক না রাখার নির্দেশ
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ও আটজন আহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জেরে জাহাজমালিক, জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও নাবিক নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাবিক মোতায়েন না করতে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। এএফপির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতের নৌপরিবহন মহাপরিদপ্তর (ডিজিএস) বুধবার এক নির্দেশনায় জানায়, পারস্য উপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাওয়ায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাই পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক হামলার ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওমানের জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথে ইউএইর পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ—মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ—ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনীয় নাগরিক। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। জাহাজ দুটিতে মোট ৪৬ জন নাবিকের মধ্যে ৩০ জনই ছিলেন ভারতীয়।
হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে দেশটি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালির ওমান-সংলগ্ন অংশে একটি 'অবৈধ রুট' ব্যবহারে সহায়তা করছে। আইআরজিসির দাবি, তেহরান অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করে ওই জাহাজগুলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল এবং নিজেদের নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মাইন পাতা এলাকা বলে দাবি সংস্থাটির।
হামলার জেরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় ইরানের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ জাওয়াদ হোসেইনিকে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাকে 'গভীর উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করে।
নির্দেশনা জারির আগে চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে পৃথক হামলায় আরও ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে চলাচলকারী—পতাকা যা-ই হোক না কেন—প্রতিটি জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে 'সিফেয়ারার-ফার্স্ট' নামে একটি জরুরি সুরক্ষা উদ্যোগ ঘোষণা করেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জুন ওমান উপকূলে সেত্তেবেল্লো তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত তিন ভারতীয় নাবিকও।
বিশ্বে নাবিক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। দেশটির তিন লাখের বেশি নাবিক বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ বহরে কর্মরত আছেন।
মতামত দিন