নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা
ঝিনাইদহ-৪: স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা, ৪ জনকে কুপিয়ে জখম
জাতীয় নির্বাচনের পরদিন ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ নির্বাচনি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন- কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপি কর্মী খোকন হোসেন ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ইবন হোসেন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক বলে জানা গেছে।
সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালিব। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট।
এই আসনের ভোটাররা জানান, রাশেদ খানের বাড়ি ঝিনাইদহ-২ আসনের মুরারীদহ গ্রামে। তিনি নির্বাচনের আগে কখনো কালীগঞ্জে আসেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তিনি কালীগঞ্জে আসেন। এরপর তিনি ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের আড়পাড়া এলাকায় ভোটার স্থানান্তর করেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনটি মূলত বিএনপি অধ্যুষিত। ওই এলাকার বিএনপির তৃনমূলের সমর্থকরা নির্বাচনের আগমূহুর্তে অন্য দল থেকে যুক্ত হওয়া রাশেদ খানকে তাই মেনে নিতে পারেননি বলে জানান অনেকেই। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকায় রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন বলে মনে করছেন এই আসনের ভোটাররা।
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে ধানের শীষের কয়েকজন সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সে সময় ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ইবনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, নির্বাচনের পরের দিন তার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। চিহ্নিত হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে তারা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে পীড়বাড়ি- যেটি এলাকায় সনামধন্য পরিবার হিসেবে সুপরিচিত। সে পরিবারের ছেলেরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাস্তার পাশে, সেখানে আমার নির্বাচনি অফিস। আজিজুলের নেতৃত্বে সেই অফিসে হামলা চালানো হয়, পীরবাড়ির ২ জন ছেলের ওপরও হামলা করা হয়েছে বাড়ির ভেতরে ঢুকে। পরিবারের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এই আসনে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তিনি অবিলম্বে ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে