দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন গ্রেপ্তার
বিদ্রোহের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে ইউনের ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের পাহাড়ি এলাকার ওই বাসভবনে বসবাস করছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন। বাড়িটির চারদিক কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বাড়ির বাইরে ছিল সশস্ত্র বাহিনীর একটি ছোট দল। মঙ্গলবার রাতে ৩০০ পুলিশ এবং দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তকারীদের একটি দল ইউনের বাসভবনের বাইরে অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে মূল শহরের দিকে রওনা দেয় তারা।
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই গ্রেপ্তার অবৈধ এবং ইউনকে জনসমক্ষে হেয় করার জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে ইউন সুক ইয়োলই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি অভিশংসন ও গ্রেপ্তার পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
গত ৩ ডিসেম্বর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ সমূলে উৎপাটনের কথা বলে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন ইউন। পরে প্রবল বিরোধিতার মুখে সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি। তার এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়াকে কয়েক দশকের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় বিরোধী দল তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনে।
অভিশংসনের প্রক্রিয়ায় গত ১৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউনকে বরখাস্ত করেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত । যদিও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে দায়িত্ব ও ক্ষমতা হারিয়েছেন ইউন। তবে এখনো তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদে বহাল রয়েছেন।
মতামত দিন