Views Bangladesh Logo

‘শত্রুতা আমার সঙ্গে হতে পারে, গাছের সঙ্গে কেন?’

‘আমার জায়গায় ঘর, আমার জায়গায় গাছ। নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গাছগুলো বড় করেছি। শত্রুতা যদি করতেই হয়, আমার সঙ্গে করুন। কিন্তু গাছের সঙ্গে শত্রুতা কেন?’ কথাগুলো বলতে বলতে বারবার চোখ ভিজে উঠছিল ৬০ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজশাহীর কাটাখালী থানার নলখোলা গ্রামে নিজের বাগানের কাটা গাছের গোড়ার পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি।

আছিয়া বেগমের অভিযোগ, জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তার বাগানের নয়টি মেহগনি ও একটি আমগাছ কেটে ফেলেছে। ভোর পাঁচটার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে কাটাখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ২৬ বছর আগে নলখোলা মৌজায় ৪১ শতাংশ জমি কিনেছিলেন আছিয়া বেগম। এরপর থেকে পরিবারটি ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। বছরের পর বছর ধরে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে একটি ছোট্ট বাগান গড়ে তোলেন। তবে জমি কেনার পর থেকেই কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।

বিরোধ মেটাতে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকটি শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আছিয়া বেগমের দাবি, প্রতিপক্ষ সেই সমঝোতা মানেনি।

বৃদ্ধার পরিবার জানায়, স্থানীয় আমিন দিয়ে অন্তত ১০ বার জমি মাপা হয়েছে। প্রতিবারই বিরোধপূর্ণ অংশটি তাদের জমির মধ্যেই পড়েছে। এমনকি কেটে ফেলা গাছগুলোর গোড়াও তাদের জমির ভেতরে রয়েছে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে গাছ কেটে ফেলার জন্য তাদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

আছিয়া বেগমের ছেলে আব্দুর রশিদ জানান, জমি কেনার পর তারাই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের প্রায় ছয় ফুট জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুষ্ঠু মাপজোখ শেষ হওয়ার আগেই তাদের গাছ কাটতে চাপ দেওয়া হয়। এখন বাগানের অন্য পাশে থাকা আরও ১৩টি গাছ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না বলে জানান আছিয়া বেগম। তার দুই ছেলে আশরাফের মোড় এলাকায় নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন, আর স্বামী আজিবার রহমান গরুর জন্য ঘাস কাটতে বিলে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত শ্রমিক এনে গাছগুলো কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ তার। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় দুই নারীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম। তার দাবি, গাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমির মালিকানার কাগজপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ