Views Bangladesh Logo

ময়মনসিংহে বাসের ধাক্কায় নিহত ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত

ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু।

শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রহমতপুর বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে এর সাত যাত্রীর সবাই নিহত হন।

নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

নিহত অন্য তিনজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে এবং অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪), একই উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে বাসটি আটক করে জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাসটি রেখে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়।

পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। এরপর মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন বলেন, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। পরে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটিতে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ