কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা এখন আমি, বললেন আমির হামজা
নিজ সংসদীয় এলাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা বলেন, 'মেডিকেল এবং সদর (হাসপাতাল) নিয়ে কিছু লিখিত অভিযোগ আছে। এগুলো আমি সদরে (কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল) জানিয়েছি, এবং সময় দিয়েছি, এগুলো পাল্টাতে হবে। ওনারা (কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল) প্রথমে ভুল স্বীকার করেছে, এমনকি মাফও চেয়েছে। আসলে এটা (কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ওপরওয়ালার দোষ রয়েছে। বলেছি, ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা হবে, কিছু হলে আমারে জানাবেন।'
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সভায় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, 'মেডিকেলে এলে ডাক্তারদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রাইভেট ক্লিনিকে ওনারা যখন দেখেন, তখন রাত ১১টা পর্যন্ত দেখেন। এ ব্যাপারটা আপনি কীভাবে দেখেন?' জবাবে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, 'দালালদের এবং বিভিন্ন স্পিরিট মানির কথা বলা হয় এবং আরও কিছু হাত আছে—এই হাতগুলোর কথা গোপনে কেউ কেউ জানিয়েছে। আমি সরাসরি জানিয়েছি, দুই নাম্বারি কেউ যদি করতে চায়, সরাসরি বলবেন যে মাওলানার কাছে টাকা দেওয়া আছে বা এ বিষয়ে বলা আছে, আপনারা ওনার কাছে যান। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি দেখব।'
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের আবেগের জায়গা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। এটি আমরা পুনরায় চালু করতে চাই। কয়েকটি বিভাগ চালু আছে, পূর্ণাঙ্গভাবে যেন চালু হয়, সে বিষয়ে আজ (গতকাল) আসলে মিটিং ছিল। আমরা দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কথা বলেছি। কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অন্তত একটি সুখবর শুনতে পারবেন, যা শুনলে আপনারা আনন্দ পাবেন।'
তার এই বক্তব্য রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতিতে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আমির হামজা লেখেন, 'প্রিয় দেশবাসী, এবং আমার সকল শ্রেণির সমর্থকবৃন্দ—আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই, আমাকে নিয়ে যে সমস্ত জায়গায় মিডিয়া ট্রায়াল চলে অথবা আমাকে নিয়ে কটু কথা বলা হয়, সেসব জায়গায় গিয়ে আপনারা খারাপের বিপরীতে খারাপ কথা বলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না। হয় আপনারা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলবেন, অথবা চুপ থেকে এড়িয়ে যাবেন। কিন্তু কোনোক্রমেই আমার পক্ষ নিয়ে কাউকে বিন্দুমাত্র কটু কথা শোনাবেন না। মুমিনের জবান থেকে অপর মুমিন হেফাজতে থাকবে—এটাই আমাদের কাম্য। আর আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়া টুইস্টেড করে যেসব নিউজ করে, আমাকে নিয়ে যাঁরা কটু কথা বলেন—সেটার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আমি এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নই। নিশ্চয়ই মিথ্যার ওপরে সত্য বিজয়ী হবে।'

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে