Views Bangladesh Logo

চুয়াডাঙ্গায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি, গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বিপ্লব হোসেন। তিনি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৩ জুন) রাতে দায়ের করা মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে একই গ্রামের শিখা খাতুনের (১৯) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বিপ্লব হোসেনের। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি দামি মোবাইল ফোন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

শিখা খাতুন অভিযোগ করেন, গত ২৬ মে যৌতুকের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী তাকে মারধর করেন এবং পেটে লাথি মারেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন এবং গর্ভের শিশুর নড়াচড়া কমে যায়।

পরে ঈদের পর বাবার বাড়িতে যাওয়ার পরও অসুস্থতা অব্যাহত থাকলে গত সোমবার জীবননগর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে।

শিখার মা আরিফা খাতুন বলেন, বিয়ের সময় ছেলেপক্ষের কোনো দাবি না থাকলেও পরে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। দাবি পূরণ করতে না পারায় মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

শিখা খাতুন জানান, গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানানো হলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে বুধবার সকালে মৃত সন্তান প্রসব করেন। এমনকি খবর পাওয়ার পরও স্বামী তাকে দেখতে হাসপাতালে যাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, শুরুতে মামলা করতে গেলেও বিভিন্ন চাপের কারণে তিনি পিছিয়ে যান। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এলে এবং প্রশাসনের নজরে আসার পর পুনরায় থানায় গিয়ে মামলা করেন।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন।

জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর সঙ্গে নির্যাতনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ